আমাদের ব্লগ

আধুনিক ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের অবদান

মুসলিম শাষনের পূর্বে ভারত ছিলো পৃথিবীর একটি বিচ্ছিন্ন  জাতি । মুসলমানগণ ভারতবর্ষের সংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ধারায় কি অসামান্য বৈশিষ্ট্য ও অসামান্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন তার তাৎপর্য বুঝার জন্যে ভারতের ঐ যুগের সমীক্ষা নেয়া প্রয়োজন, যখন আধুনিক ইসলামী ভারতের ভিত্তি স্থাপিত হয়নি । মুঘল সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ‘যহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর’ (১৪৮৩-১৫৩২) এদেশে মুসলমানদের আগমন পূর্ব অবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক চিত্র তুলে ধরেন, যা অধ্যায়ন করলে সাম্যকরূপে বুঝাযাবে  ‍মুসলমানগণ নিজেদের উন্নয়ন, তৎপরতা, যোগ্যতা ও অবিজ্ঞতার মাধ্যমে এদেশকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেছেন । মুঘলদের আগমানের অনেক পূর্বে ভারতবর্ষে মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই নির্মাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁদের মহৎ প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে ।

বাবর তার আত্মজীবনী ‘তুযুক-ই-বাবরী’তে লিখেন যে, ‘‘ভারতে উন্নত ঘোড়া নেই, ভালো গোশত নেই, আঙ্গুর নেই, বরফ নেই, শীতল পানি নেই, শৌচাগার নেই, মোমবাতি নেই, বাতি রাখার পাত্র নেই, মশাল নেই, । মোমবাতির পরিবর্তে লোকেরা কাদা মাটি, কাঠ বা লোহার তৈরি পিদিম ব্যাবহার করতো । এই পিদিমটি তিন পা বিশিষ্ট । এক পা’তে বাতি দানের মুখের আকৃতিতে একটি লোহা কাঠ স্থাপন করা থাকতো । রাতে কথিত মহা-রাজাদের যদি আলোর প্রয়োজন পড়তো তখন পরিচারিকাগণ এই স্থুল পিদিম নিয়ে দাড়িয়ে থাকতো ।

বাগান ও প্রাসাদে পনির কোন সুব্যাবস্থা নেই । প্রাসাদগুলোতে সৌন্দর্য, সামঞ্জস্য, পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে এবং এতে বায়ু চলাচলের কোন ব্যাবস্থা নেই । মহিলারা পড়তো ধূতি আর এক অংশ দিয়ে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখতো এবং অপর অংশ ছড়িয়ে দিত মাথার উপরে’’ ।

মাটির উর্বরতা থাকা সত্বেও ভারতবর্ষে ফলমূল পাওয়া যেত অত্যন্ত কম । যা কিছু পাওয়া যেত তাও নিন্মমানের এবং অপরিকল্পিত ভাবে উৎপাদিত হত । অপরদিকে মুসলিম শাসকদের রুচি ছিল অনেক উন্নত । ভারতবর্ষে মুসলমানদের আগমনের ফলে ফল চাষ সহ কৃষি খাতে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয় । বাবরের ‘তুযুক-ই-বাবরী’ এবং জাহাঙ্গীরের ‘তুযুক-ই-জাহাঙ্গীর’ এ এতদসংক্রান্ত বিস্তারিত বিববরণ পাওয়া যায় ।

এক গাছের সাথে অপর কাছে কলমের মাধ্যমে ব্যাপক পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে তাঁরা সুস্বাদু ও নতুন জাতের ফল উদ্ভাবন করেন । বর্তমানে আম ভারতের সুস্বাদু ও বিখ্যাত ফল । মুঘলদের পূর্বে ভারতে শুধুমাত্র ‘তুখমী’ নামক একটি আমের জাত ছিল । মুঘলরা বিভিন্ন প্রজাতির আমের পরাগায়ন (Pollination) ও কলমের (Graft) মাধ্যমে অত্যন্ত সুন্দর সুস্বাদু ও সুমিষ্ট আমের উদ্ভাবন করেন । এর ফলশ্রুতিতে ভারতবর্ষে এত জাতের আমের চাষ হতে লাগলো যার সংখ্যা নিরূপন করা কঠিন ।

 

#IGSRC

সূত্র:

Conan, Michel (২০০৭)। Middle East Garden Traditions: Unity and Diversity : Questions, Methods and Resources in a Multicultural Perspective, Volume 31। Washington, D.C.: Dumbarton Oaks Research Library and Collection।
↑”Islam: Mughal Empire (1500s, 1600s)”
↑Morier 1812,
↑Rein Taagepera (সেপ্টেম্বর ১৯৯৭)। “Expansion and Contraction Patterns of Large Polities: Context for Russia”। International Studies Quarterly।
↑Turchin, Peter; Adams, Jonathan M.; Hall, Thomas D. (২০০৬)। “East–West Orientation of Historical Empires and Modern States”। Journal of World-Systems Research।
↑Colin McEvedy; Richard Jones (১৯৭৮)। Atlas of World Population History। New York: Facts on File।
↑Richards, James (২৬ জানুয়ারি ১৯৯৬)। The Mughal Empire। Cambridge University Press।
Jawaharlal Neheru, `The Discovery of India’