আমাদের ব্লগ

ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কারক একজন মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার নাম আবুল হাসান আলি ইবনে ইউনুস আল-মিসরি। তিনি মিসরের রাজধানীর কায়রোস্থ বিখ্যাত জ্ঞান-গবেষণাকেন্দ্র দারুল হিকমার নেতৃস্থানীয় গণিতজ্ঞ ছিলেন। মিসরের ফাতেমি রাজবংশের খলিফা আল-আজিজ ৯৭৫ সালে ক্ষমতায় আসে। আল-আজিজ খলিফা হওয়ার দুই বছর পর ইবনে ইউনুস জোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা আরম্ভ করেন। আল-আজিজ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে জানা যায়। ইবনে ইউনুস জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি ত্রিকোণমিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক তালিকা তৈরির কারণে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
আল-আজিজের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই আল-হাকিম রাজ্যভার গ্রহণ করেন। আল-হাকিম ইবনে ইউনুসকে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করে। আল-হাকিমের বাসভবন ছিল কায়রোর মুকাতান পাহাড়ে। তিনি বাসায় কয়েকটি জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছিলেন। আল-হাকিমের বাসায় বসে ইবনে ইউনুস শুক্রগ্রহ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। পর্যবেক্ষণ কাজ চালানোর জন্য তিনি তার প্রপিতামহ ও কারাফায় ইবনে নাসেরের মসজিদ ব্যবহার করতেন। ৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ২২ এপ্রিল তিনি এ মসজিদ থেকে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ‘বুলুগুল আমনিয়্যাহ ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বি তুলুয়িশ শারি আল-ইয়ামানিয়্যাহ’ (On the Attainment of Desirer) শিরোনামে একটি গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেন। এতে ভোরের আলো ফোটার পূর্বাহ্নে লুব্ধকর উদয় এবং কপটিক বর্ষে সপ্তাহ শুরুর দিন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
মুসলমানরা তাদের স্বর্ণযুগের শুরুতেই ঘড়ির ব্যবহার শুরু করেছিল। এদিকে ইবনে ইউনুস পেন্ডুলাম আবিষ্কার করেন। পেন্ডুলাম আবিষ্কারের মাধ্যমে যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করা হয়। পশ্চিমা কিছু বিজ্ঞানী ইবনে ইউনুসের পেন্ডুলাম আবিষ্কারের কথা কৌশলে অস্বীকার করতে চাইলেও এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে, দশম শতাব্দীর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইবনে ইউনুস ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কার করেন এবং সময় নির্ধারণে তা ব্যবহার করেন। এছাড়াও ইবনে ইউনুসের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি প্রমাণ করে তিনিই পেণ্ডুলামের প্রথম আবিষ্কারক।
সূত্র: কিসসাতুল ইসলাম, ইবনে ইউনুস ওয়া আসারুহু
#IGSRC @IGSRC