আমাদের ব্লগ

এস্ট্রোফিজিক্স হলাে জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি শাখা। ‘এস্ট্রো’ শব্দের মানে হলাে ‘তারকা’ এবং ‘ফিজিজ’ শব্দের মানে হলাে প্রকৃতি। মহাবিশ্বের গঠন নিয়ে আলােচনা করাই এস্ট্রোফিজিক্সের লক্ষ্য।
মুসলিম বিজ্ঞানী বিশেষ করে ইবনে আলহাইছামের হাতে এ বিজ্ঞান পরিপুষ্টি লাভ করে। তিনি এস্ট্রোফিজিক্স এবং পদার্থ বিজ্ঞানের মহাজাগতিক কলাকৌশলে তার এপিটোম অব এস্ট্রোনমি’ প্রয়ােগ করেন। তিনি প্রমাণ করেন, লস অব ফিজিক্সের জন্য জ্যোতিষ্কমণ্ডলী দায়ী। তার মিজান আলহিকমা’য় পরিসংখ্যান, এস্ট্রোফিজিক্স ও মহাজাগতিক কলাকৌশল নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে।
হাইছাম বস্তুর মধ্যে আকর্ষণের তত্ত্ব নিয়ে আলােচনা করেন। মনে হচ্ছে তিনি দুটি বস্তুর আকর্ষণের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি আকর্ষণের কেন্দ্র নিয়ে ‘মাকালা ফিল-কারাসতান’ শিরােনামে একটি বই লিখেছেন। এ বইয়ে ইবনে আলহাইছাম একটি তত্ত্বে দেখান যে, জ্যোতিষ্কমণ্ডলী পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে তাদের দূরত্ব পরিবর্তন করে।
বিশ্ববিখ্যাত বুক অব অপটিক্স রচনা করার কিছু সময় আগে তিনি মাকালা ফি দাউ আল-কামার’ (অব দ্য লাইট অব দ্য মুন) শিরােনামে আরেকটি বই রচনা করেন। এ বইয়ে তিনি গাণিতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞানের সমন্বয় সাধন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান ও এস্ট্রোফিজিক্সে গবেষণামূলক পদ্ধতি প্রয়ােগের চেষ্টা করেছেন। সে সময় বিশ্বাস করা হতাে, একটি কাঁচের মতাে চাঁদ থেকে সূর্যের আলাে প্রতিফলিত হয়। কিন্তু তিনি এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করেন এবং সঠিকভাবে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, চন্দ্র পৃষ্ঠের যে অংশে সূর্যের আলাে প্রতিফলিত হয় কেবলমাত্র সেখান থেকে আলাে বিচ্ছুরিত হয়।
চাঁদের আলােকিত পৃষ্ঠের সব অংশ থেকে আলাে বিচ্ছুরিত হয়, একথা প্রমাণ করার জন্য তিনি সাধারণ গবেষণামূলক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। ১০২১ সালে রচিত ‘মাকালা ফি দাউ আল-কামার’-এ (On the light of the Moon) তিনি এ তত্ত্ব হাজির করেন।
ইবনে আল-হাইছাম একটি আদর্শ গাণিতিক মডেল এবং পর্যবেক্ষণযােগ্য বস্তুর মধ্যে সম্পর্কের একটি স্পষ্ট ধারণা দেন। তিনিই প্রথম পরিবর্তনশীল এবং অপরিবর্তনশীল উপায়ে গবেষণামূলক পরিস্থিতি পরিবর্তনের ধারাবাহিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি গবেষণা করে দেখান যে, একটি পর্দার ওপর দু’টি ক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্য দিয়ে চাঁদের আলাে প্রক্ষেপণ করা হলে যে অংশ আলােকিত হবে পর্যায়ক্রমে একটি ছিদ্র বন্ধ করে দিলে আলােকিত অংশের ঔদ্ধৃহস পাবে।
সূত্র: 1) For Ibn al-Haytham’s life and works, (Smith 2001, cxix) recommends (Sabra 1989, vol.2)
2) Sajjadi, Sadegh, “Alhazen”, Great Islamic Encyclopedia, Volume 1, Article No. 1917
3) “Ibn al-Haytham | Arab astronomer and mathematician”. Encyclopedia Britannica.
5) Rashed 2002a.
6) Rashed 2007, ; Topdemir 2007
7) Sabra 2007,. Grant (1974) notes the Book of Optics has also been denoted as Opticae Thesaurus Alhazen Arabis, as De Aspectibus, and also as Perspectiva