আমাদের ব্লগ

রসায়ন
জাবির ইবনে হাইয়ানের গ্রন্থে পরিশোধিত সীসা এবং শ্বেত সীসা প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া

জাবির ইবনে হাইয়ান অপরিশোধিত সীসা থেকে পরিশোধিত সীসা তৈরির পদ্ধতি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হন । এর জন্য তিনি Reeducation (বিজাড়ন) পদ্ধতি অনুসরণ করেন । এতে অপরিশোধিত ধাতবাস্লের ভেতরে রাসায়নিকভাবে আকৃষ্ট অক্সিজেনকে নিরোধ করা হয় । তিনি সীসা তৈরির পদ্ধতিটি সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন ।

অপরিশোধিত সীসা থেকে পরিশোধিত সীসা তৈরি করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে  জাবির ইবনে হাইয়ান ‘কিতাবুল খাওয়াস আল কবীর’(Kitāb al-khawāṣṣ al-kabīr: كتاب الخواص الكبير)-এ লিখেছেন, ‘আধা সের সীসাম্ল এবং এক পোয়া সোডা লও। দু’টি একসঙ্গে গুঁড়ো করে মিশিয়ে নাও। এ দু’টির মিশ্রণকে তেল দিয়ে ভালো করে মেখে নাও। এবার তেলে মাখানো গুঁড়োগুলোকে তলায় ছিদ্রবিশিষ্ট একটি পাত্রে রেখে দাও। এই পাত্র অন্য একটি পাত্রের ওপর রেখে ভালো করে তাপ দিতে থাকো। খানিকক্ষণ তাপ দেয়ার পর দেখবে বিশুদ্ধ সাদা ধাতু নিচের পাত্রে জমা হচ্ছে।’

একই গ্রন্থে তিনি শ্বেত সীসা প্রস্তুত করার প্রণালী সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আধা সের সীসাম্ল লও। এগুলোকে ভালো করে গুঁড়ো করে দু’সের পরিমাণ ভিনিগার ঢেলে দিয়ে জ্বাল দিতে থাকো। জ্বাল দিতে দিতে ভিনিগার কমে যখন এক সের আন্দাজ দাঁড়াবে তখন পাত্রটি নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দাও। এখন অন্য একটি পাত্রে আধা সের আন্দাজ সোডা দু’সের পরিমাণ পরিষ্কার পানির সঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দাও। জ্বাল দিতে দিতে যখন পানির পরিমাণ কমে আধা সের আন্দাজ দাঁড়াবে তখন তা নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দাও। দু’টি পাত্রে রক্ষিত তরল পদার্থ এবার ফিল্টার করে নাও। প্রয়োজন হলে বারবার ফিল্টার করে নিতে হবে যাতে তরল পদার্থের মধ্যে কোনো রকম ক্লেদ বা ময়লা না থাকে। এবার দু’টি পরিষ্কার দ্রবণকে আস্তে আস্তে একত্রে মিশাতে থাকো। সোডার দ্রবণ আস্তে আস্তে সীসাম্লের মধ্য দিয়ে ঢেলে নিয়ে নাড়তে থাকো। এই মিশ্রণে একটি সাদা সুন্দর জিনিস তৈরি হবে। এ সাদা জিনিসটি দ্রবণকে ঘোলাটে করে ফেলবে। আস্তে আস্তে জিনিসটি তলায় থিতিয়ে যাবে। সবটুকু নিচে থিতিয়ে গেলে ওপরের পানি ধীরে ধীরে ঢেলে ফেলো। নিচের থিতানো জিনিসগুলো তুলে নিয়ে শুকাতে দাও। তখন তুষার শুভ্র একটি জিনিস পাওয়া যাবে। এই জিনিসটিই হলো শ্বেত সীসা।’

#IGSRC

তথ্যসূত্র:

  1. On “the science of specific properties” (ʿilm al-khawāṣṣ), see Kraus 1942–1943,

  2. ^Kraus 1942–1943, vol. I. The theory of the balance, which is mainly expounded in The Books of the Balances (Kr. nos. 303–446, see above), is extensively discussed by Kraus 1942–1943, vol. II; see also Lory 1989,