আমাদের ব্লগ

কানুন-ই-মাসউদী’তে আল-বেরুনি প্রথম পৃথিবীর গতি নিয়ে আলােচনা করেছেন। বইটিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদকে চিনি যিনি এই মতবাদে বিশ্বাসী।’ আল-বেরুনি এ জ্যোতির্বিদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, এ জ্যোতির্বিদ হলেন তিনি নিজে। তার মতে, যখন কোনাে জিনিস উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে তখন তা তার পতনের ধারা অনুযায়ী লম্ব রেখা ধরে পড়ে না
বরং একটু বেঁকে যায় এবং বিভিন্ন কোণ করে পতিত হয়। তিনি বলেন, ‘যখন পৃথিবী থেকে তার কোনাে একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন এই ছিন্ন অংশটি দু’প্রকার গতি লাভ করে। এক হলাে বৃত্তাকার গতি (Circular Motion)। পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলেই এ গতির উদ্ভব ঘটে। আরেকটি হলাে সরল গতি (Straight Motion)।
পৃথিবীর কেন্দ্রে সরাসরিভাবে পতিত হওয়ার জন্য এ গতির সঞ্চার হয়। বৃত্তিক গতির জন্য জিনিসটির গতি পরিবর্তন হয়। সরল গতি জিনিসটির অবস্থান ঠিক রাখে। যদি জিনিসটির সরল গতি থাকতাে তাহলে তা লম্ব রেখার পশ্চিমে পতিত হতাে। একই সঙ্গে দু’প্রকার গতি কার্যকর হওয়ায় জিনিসটি পশ্চিম দিকেও পড়ে না কিংবা ঠিক লম্বভাবেও পড়ে না। বরং একটু পূর্বদিকে বেঁকে পড়ে।
সূত্র:
১) B. Gafurov, Al-Biruni, a Universal Genius Who Lived in the Central Asia a Thousand of Years Ago, The Unesco Courier, June 1974, Pages 4-9.
৩) D. Pingree, Bīrūnī, Abū Rayhān, ii. Bibliography, in Encyclopedia Iranica, 2010, Volume IV, Issue 3, Pages 276-277.
৪) J. Boilot, The Long Odyssey, The Unesco Courier, June 1974, Pages 10-13.