আমাদের ব্লগ

বিস্ময়কর আবিষ্কার ‘ফাউন্টেন’ পেন সারাবিশ্বের লিখন পদ্ধতিকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল
বিস্ময়কর আবিষ্কার ‘ফাউন্টেন’ পেন সারাবিশ্বের লিখন পদ্ধতিকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল

ফাউন্টেন পেন এমন এক বিশেষ ধরনের কলম যাতে তরল কালি বিশেষ প্রকোষ্ঠে সঞ্চিত থাকে। বিশেষ প্রকোষ্ঠটির সাথে একটি সরু পথ দিয়ে কলমের নিবটি যুক্ত থাকে এবং মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে ওই পথ ধরে আসা কালি দিয়ে লেখা সম্ভব হয়। বিশেষ প্রকোষ্ঠটিতে সিরিঞ্জের মাধ্যমে বাইরে থেকে কালি ভরা যায়। এছাড়া কলমের অভ্যন্তরীণ চোষণ কৌশলের মাধ্যমে বোতল থেকে কালি চুষে নেওয়া যায়। কালি ভর্তি প্রকোষ্ঠ আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। ঝর্ণা কলম দিয়ে লিখতে তেমন কোন চাপ প্রয়োগ করা লাগে না, খুব সহজে আলতো চাপে এতে লেখা সম্ভব হয়।

বিশ্বের প্রথম ঝর্ণা কলম আবিষ্কৃত হয় ৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে, মিশরে। মিশরের সুলতান মা’দ আল-মুয়িজ {Ma’ad al-Mu’izz li Dīn Allah (932–975) (Arabic: معاذ المعز لدين الله)} এমন একটি কলম এর কথা চিন্তা করলেন যা হাত এবং কাপড়ে পড়ে নষ্ট করবে না। আবিষ্কৃত এই কলমে আধুনিক কলমের মত কালি জমা থাকতো এবং মাধ্যাকর্ষণ বলের সাহায্যে সুক্ষ্ন নল চুয়ে কালি বের হতো। কাদি আল-নুমান আল তামিমি (৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ) এবং কিতাব লিস ওয়া ই-মুসাইয়ার্দ -তে এর বিশদ বর্ণনা রয়েছে।

মিশরের সুলতান মা’দ আল-মুয়িজ বলেছিলেন “আমরা নির্মাণ করতে চাই একটি কলম যা লেখার জন্য কালি ধারককে না নিয়ে লেখার জন্য ব্যবহার করা যায় এবং যার কালিটি কলমের ভিতরে থাকবে। কোনও ব্যক্তি এটি কালি দিয়ে পূরণ করতে পারবে এবং যা খুশি তা লিখতে পারবে। লেখক এটিকে নিজের আস্তিনে বা তাঁর ইচ্ছামতো যে কোনও জায়গায় রেখে দিতে পারবেন, এতে দাগ পড়বে না এবং কালি থেকে কোনও ফোঁটাও বের হবে না। লেখার ইচ্ছা থাকলেই কালি প্রবাহিত হবে। আমরা এ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝে সবার আগে যদি এটি তৈরি করি তাহলে এটি জ্ঞানে অনুপ্রবেশের একটি ইঙ্গিত বহন করবে যে আমরা জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে সচেতন । আমি (খলিফার সভাসদ) চিৎকার করে বললাম, “এটা কি সম্ভব?” তিনি জবাব দিলেন, “মহান আল্লাহপাক ইচ্ছা করলেই সম্ভব”

#IGSRC

সূত্র: Bosworth, C. E. (Autumn ১৯৮১)। “A Mediaeval Islamic Prototype of the Fountain Pen?”। Journal of Semitic Studies। XXVl (i)।