আমাদের ব্লগ

মিশরের বিখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী ইবনে ইউনুস

মুসলিম বিজ্ঞানী ‘ইবনে ইউনুস’ পুরোনাম ‘আবু আল-হাসান আলী ইবনে আবদ আল-রহমান ইবনে আহমদ ইবনে ইউনুস আল সাদাফি আল মিশরী’ (Abu al-Hasan ‘Ali ibn ‘Abd al-Rahman ibn Ahmad ibn Yunus al-Sadafi al-Misri) (সময়কাল:৯৫০-১০০৯ইসায়ী) ।

তিনি গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান পর্যবেক্ষন করার জন্যে আল-মুগাথথাম(Al-Mugaththam) পর্বতে দূরবীণ স্থাপন করেছিলেন । দূরবীণগুলি থেকে ইবনে ইউনূস দুটি সূর্যগ্রহণ দেখেছিলেন 977 এবং 978 খ্রিস্টাব্দে, একই বছর তিনি একটি চন্দ্রগ্রহণও দেখেছিলেন । এছাড়াও তিনি ৯৯৩, ১০০৪ খ্রিস্টাব্দে দুটি সূর্যগ্রহন এবং ১০০১, ১০০২ খ্রিস্টাব্দে দুটি চন্দ্রগ্রহন দেখেছিলেন । তাঁর জ্যোতির্বিজ্ঞানের টেবিলে সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করেছিলেন।

ইবনে ইউনূস চমকপ্রদ নির্ভুলতার সাথে বিভিন্ন স্টার-ক্লাস্টারগুলির অবস্থান-দূরত্ব গণনা করেছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণকৃত ফলাফলগুলি নিখুঁত হওয়ার কারণে, পশ্চিমা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আজও এটি গ্রহণ করে চলেছে এবং এটি বর্তমান চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পরিমাপ করার জন্য রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করে যাচ্চে ।

ইবনে ইউনুসের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘আল জীজ্উল কাবীর’ যা মিশরের বৈজ্ঞানিক গৌরব গাঁথার পরিচয় বহন করে । এ গ্রন্থটি এতটাই মূল্যবান ছিলো যে ফার্সীতে ওমর খৈয়াম, মঙ্গোলীয় ভাষায় নাসির উদ্দিন তুসী, চীনা ভাষায় চো চিউ কিং অনুবাদ করেন ।

আগামীতে আমরা ইবনে ইউনূস সম্পর্কে আরও আলোচনা করবো । বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় অবদান গুলোও তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ !

#IGSRC

সূত্র:
1. Eternal Egypt. Ibn-Yunus El-Falaky Archived 16 July 2011 at the Wayback Machine.
2. ^ Eternal Egypt. Ibn Yunus The Historian.
3. Complete Dictionary of Scientific Biography, 2008
4. ^ David A. King, ‘Islamic Math and Science’, Journal for the History of Astronomy,