আমাদের ব্লগ

মুসলিম বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী আল-জাজারী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-জামিউল বায়ান আল-ইলম ওয়াল আমাল আন-নাফি ফি সিনাত আল-হায়াল’ (যান্ত্রিক শিল্পকলার তত্ত্ব ও অনুশীলনের সারসংক্ষেপ) নামক গ্রন্থে তার তৈরিকৃত বিখ্যাত দূর্গঘড়ির কথা বর্ণনা করেন। পানিপ্রবাহের প্রযুক্তিতে চালিত এই ঘড়িটি সম্পর্কে তার বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে্ই বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
দিনের বেলা ঘড়িটির উপরের চাকতির ডান দিক হতে সূর্য উঠতে দেখা যেত। দিনের শেষে সূর্য ডুবে গেলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির চাঁদ চাকতির বাম হতে ডানে স্থানান্তরিত হত। প্রতি ঘন্টা পার হলে ডিস্কের নিচে অবস্থিত দুইটি দরজার সারি হতে উপরের সারির একটি দরজা খুলে একটি পুতুল বের হত এবং তার নিচের দরজাটি উল্টে গিয়ে ভিন্ন একটি রং প্রদর্শন করতো। এর পরপরই দুইপাশের দুইটি বাজ পাখি তাদের খোপ ছেড়ে সামনে বেরিয়ে আসতো এবং তাদের পাখা ছড়িয়ে দিতো। এসময় তাদের ঠোঁট হতে একটি করে বল বেরিয়ে তাদের সামনে রাখে পাত্রে পড়তো এবং ঘড়ির মধ্য হতে হালকা ঝনঝনির আওয়াজ শোনা যেতো। এরপরই বাজপাখিগুলো আবার ডানা গুটিয়ে তাদের খোপে ঢুকে পরতো।
সূত্র: 1) A Review of Early Muslim Control Engineering
2)The Clock of Civilisations
3)The Clepsydra of the Gazelles
4)History, Culture and Science in Morocco: 11th-14th Centuries
5)Robots, Musicians and Monsters: The World’s Most Fantastic
Clocks
6) Wikipidia