আমাদের ব্লগ

জাকারিয়া আল রাজী
মুসলিম বিজ্ঞানী ‘জাকারিয়া আল-রাজি’র টিকা আবিষ্কারের কৃতিত্ব ‘এডওয়ার্ড জেনার’ এবং ‘লুইস পাস্তুরে’র নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল
বিশ্বে সর্বপ্রথম টিকার আবিষ্কাক হলেন মুসলিম বিজ্ঞানী ইরানি চিকিৎসক মুহাম্মাদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি । সময়কাল (৮৫৪-৯৩২ ইসায়ী) গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন এবং এর ফলাফলও ছিলো চমকপ্রদ ।
পশ্চিমা ঐতিহাসিক বিবরণীতে পাওয়া তথ্য মতে , টিকা দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছিলো মহামারী গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে। যখন এই রোগটি ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করেছিল। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ এবং আমেরিকাতেও এই গুটিবসন্ত থাবা বসিয়েছিলো। অন্যদিকে তখন উত্তর আফ্রিকা, অটোমান সাম্রাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ গুলোতে টিকা দেওয়া রুটিন অনুশীলন ছিল। ইসলামী বিশ্বে যেখানে টিকার প্রচলন ছিল; সেখানে ইংল্যান্ডে প্রচলন ছিল ভয়াবহ কুসংস্কারের । গির্জার পাদ্রীরা টিকা দানের বিরুদ্ধে আইন জারি করলো । তারা রোগের চিকিৎসায় ভয়াবহ অবৈজ্ঞানিক আচার -আচরণ অনুশীলন করতো যা একটি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এমন ধারণার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তির জন্ম দেয়।
১৭১৬ থেকে ১৭১৮ সালের মধ্যে ইস্তাম্বুলে থাকা ইংরেজ রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী লেডি মন্টাগু ইংল্যান্ডে ভ্যাক্সিন এর ব্যবহারকে প্রচলন করেছিলো। তুরষ্কে অবস্থানরত ইংল্যান্ড এর দূতাবাসের সার্জন চার্লস মাইটল্যান্ডের দ্বারা তার ছেলেকে সফলভাবে টিকা দেওয়ার পর এই পদ্ধতির কার্যকারিতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলো। লেডি মন্টাগু তার চিঠিতে এবং ইংল্যান্ডে ফিরে আসার সময় পদ্ধতিটি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে লিখেছিলো, গুটিবসন্ত থেকে রক্ষা পাবার উপায় হিসেবে টিকা নিয়েছিলো। যদিও সে গির্জার পাদ্রী এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল, তবে সে নিজের অবস্থান অনড় রেখে টিকা প্রদান পদ্ধতিটি প্রচারণা চালায় এবং ইংল্যান্ডবাসীকে টিকা গ্রহণ করতে সফল হয়। ইস্তাম্বুলে মন্টাগু পরিবারের চিকিৎসক Dr. Emmanuel Timonius ১৭২৪ সালে কথিত রয়েল সোসাইটিতে ইনোকুলেশনের বৈজ্ঞানিক বিবরণ জমা দেওয়ার সময় মুসলমানদের এই টিকা দান কর্মসূচিকে জোড়ালো সমর্থন করে। এছাড়াও তৎকালী এ টিকাদান কর্মসূচিকে সমর্থন করেছিল ত্রিপোলির রাষ্ট্রদূত কাসেম আগা। কাসেম আগার রিপোটে ত্রিপোলি, তিউনিস, আলজিয়ার্স এবং মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে এর প্রথম ব্যবহার এবং নিরাপত্তার বিবরণ দিয়েছেন।
কথিত রয়্যাল সোস্যাইটিতে Dr. Timonius লিখেছিল-
‘… সার্কাসিয়ান, জর্জিয়ান এবং অন্যান্য এশিয়াটিকরা কনস্টান্টিনোপলে তুর্কি এবং অন্যান্যদের মধ্যে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এক ধরনের টিকা দিয়ে গুটিবসন্ত নিরাময় করার এই প্রথা চালু করেছে।
… অপারেশনের পর থেকে, সব বয়সের পুরুষ-মহিলা এবং ভিন্ন স্বভাবের ব্যক্তিদের উপর এ টিকার প্রয়োগ করা হয়েছে যার ফলে পার্শপ্রতিক্রিয়ায় কেউ মারা যায়নি। যাদের উপর এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে তারা খুব সামান্য উপসর্গের মুখে পড়েছে, কিছু দুর্লভ ক্ষেত্রে তাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়েছে । সবচাইতে মূল্যবান প্রাপ্তি হলো গুটি বসন্ত কখনোই মুখে দেখা দেয় না এবং মুখে দাগ বা গর্ত করে না। ’
অথচ এত প্রমাণ থাকার পর ও পশ্চিমা বিশ্ব নির্লজ্জের মত এই মুসলিম বিজ্ঞানী আল রাজীর টিকা আবিষ্কারের কৃতিত্ব ১৭৯৬ সালে ‘এডওয়ার্ড জেনার’ এবং ‘লুইস পাস্তুরে’র নামে চালিয়ে দিয়েছিল
তথ্যসূত্র:
• Shetty, Priya (2011, July 2). Arabic Roots of Modern Medicine. The Lancet,378(9785), https://www.thelancet.com/…/PIIS0140-6736(11…/fulltext
• Ibid.
• “Inoculation from East to West”, 1001 Inventions, 1001inventions.com/feature/inoculation/
• Boylston, Arthur (2012, July), The origins of inoculation. Journal of the Royal Society of Medicine, 105(7), https://journals.sagepub.com/doi/10.1258/jrsm.2012.12k044
• Boylston, Arthur (2012, July), The origins of inoculation. Journal of the Royal Society of Medicine, 105(7), https://journals.sagepub.com/doi/10.1258/jrsm.2012.12k044https://journals.sagepub.com/doi/10.1258/jrsm.2012.12k044