আমাদের ব্লগ

মেডিসিন সাইন্স এ আল-কিন্দীর অবদান অবিস্মরণীয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর সংকলনগ্রন্থ ‘আকরারাধীন’ ছাড়াও আল-কিন্দী ‘রিসালা ফি মা’রিফাতি কুওয়াত আল-আদভিয়াত আল-মুরাককাবা’ নামক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থে মুসলিম বিজ্ঞানী আল-কিন্দী বিভিন্ন ওষুধের গঠনপ্রণালি বিশ্লেষণের প্রয়াস পান। এই বিশ্লেষণের প্রাক্কালে তিনি ওষুধের গুণাবলিকে সংখ্যায় প্রকাশ করায় যে সমস্যা তা তুলে ধরেন এবং আধুনিক ও যুক্তিসঙ্গত এক সূত্রের উদ্ভাবন করেন।
প্রাচীন গবেষণাসমূহের উন্নয়ন সাধন করতে গিয়ে আল-কিন্দী গুণাগুণের সংখ্যায়িতকরণের সমস্যার সম্মুখীন হন। তিনি যৌগিক ওষুধের তীব্রতার মাত্রার সাথে সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করতে গিয়ে এই অবস্থার সম্মুখীন হন। যেহেতু ওষুধে গুণাবলি পৃথকভাবে অবস্থান করে তাই বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আবার যেহেতু ওষুধের তীব্রতার মাত্রা নির্ধারিত হয় গুণাগুণের আনুপাতিক হারে সেহেতু আল-কিন্দী অংশবিশেষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে যেমন গরম এবং ঠাণ্ডা প্রতিক্রিয়ার মাত্রাবৃদ্ধির গাণিতিক সম্পর্ক উপস্থাপন করার প্রয়াস পান।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, গরম/ঠাণ্ডা ২ : ১ অনুপাতে প্রথম মাত্রার উত্তাপ কাজ করে;
৪ : ১ অনুপাতে কাজ করে দ্বিতীয় মাত্রার উত্তাপ;
৮ : ১ অনুপাতে তৃতীয় মাত্রার উত্তাপ;
১৬ : ১ অনুপাতে চতুর্থ মাত্রার উত্তাপ কাজ করে।
এভাবে ক্রমান্বয়ে এটা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। অন্য এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোন ওষুধের তীব্রতার মাত্রা বা ডিগ্রি লগারিদমের সমানুপাতিক, যেমন ১ = লগ ২ (গরম/ঠাণ্ডা)।
• সূত্র: “al-Kindi, Abu Yusuf Ya’ḳub ibn Isḥak”. New International Encyclopedia. 1905.
• “Kindī”. Encyclopædia Britannica (11th ed.). 1911.
• “Kindi, Abu Yusuf Ya’kub Ibn Ishak Al-” . Encyclopedia Americana. 1920.