আমাদের ব্লগ

‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ যে গ্রন্থের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সূচনা হয়
‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ যে গ্রন্থের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সূচনা হয়

৯৮০ ঈসায়ীতে মধ্যএশিয়ায় বর্তমান উজবেকিস্তানের অর্ন্তভুক্ত বুখারার নিকটবর্তী আফসানাতে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা জন্মগ্রহন করেন। ১০৩৭ ঈসায়ীর ২১শে জুন বর্তমান ইরানের হামাদানে ইন্তেকাল করার আগ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন বিষয়ের উপর ৪৫০টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে ৪০টি গ্রন্থ ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত।

ইবনে সিনার বিভিন্ন রচনার মধ্যে তার চিকিৎসাশাস্ত্র সংক্রান্ত বিশ্বকোষ ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ বা সংক্ষেপে আল-কানুন সর্বাধিক পরিচিত। ল্যাটিন ভাষায় এটি ক্যানন মেডিসিনায়ে (Canon medicinae) নামে ১১৫০ ঈসায়ীতে অনূদিত হয়। অনুবাদের পর এটিকে ইউরোপীয় বিভিন্ন চিকিৎসাবিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
আজ আমরা ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ গ্রন্থ সর্ম্পকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।

আল-কানুন গ্রন্থটি মোট পাঁচ খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ডে মানুষের শরীরের বর্হিভাগ ও আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের বিবরণ এবং তাদের কাজসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সাধারন স্বাস্থবিধিও এতে আলোচিত হয়েছে।

দ্বিতীয় খন্ডে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ঔষধ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ খন্ডে বিভিন্ন রোগ ও তার চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা এবং পঞ্চম খন্ডে বিভিন্ন ঔষধ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

কিডনী ও মূত্রাশয়ের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে প্রথম ইবনে সিনা তার আল-কানুনে আলোচনা করেন। এছাড়া প্রসাবের সাথে রক্ত আসার কারনও তিনিই প্রথম উদঘাটন করেন।
ইবনে সিনা বিশ্বাস করতেন, রোগী কখনোই সুস্থ হতে পারেনা যদি না তার অসুস্থতার কারণ ও সুস্থতার পন্থা উভয়টিই সনাক্ত করা যায়। তিনি তার আল-কানুনে বলেন,
“চিকিৎসাবিজ্ঞান হল এমন একটি বিজ্ঞান যার দ্বারা আমরা শরীরের বিভিন্ন অবস্থার কথা জানতে পারি; সুস্থতায়, অসুস্থতায়, কি কারণে কারো স্বাস্থ্যহানী ঘটে এবং কখন ঘটে। অপরকথায় এটি হল এমন শিল্প, যা স্বাস্থ্য সম্পর্কে চিন্তা করে এবং যে শিল্পের সাহায্যে স্বাস্থহানীতে তা পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।” মানব দেহের গঠন আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মানবদেহ চার ধরনের উপাদান দ্বারা তৈরি; উষ্ণ উপাদান, শীতল উপাদান, শুষ্ক উপাদান এবং আদ্র উপাদান।

ইবনে সিনা মানুষের জীবনচক্র সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মানব জীবনকে চারটি ধাপে এবং প্রথম ধাপকে আবার পাঁচটি ভাগে ভাগ করেন। মানব জীবনের এই চারটি ধাপ হল; ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত যৌবন, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত মধ্যবয়স, ৬০ বছর পর্যন্ত পড়ন্ত বয়স এবং এর পরবর্তী থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বার্ধক্য।

যৌবনের পাঁচটি ভাগ হলো নবজাতক, শিশু, বালক/বালিকা, কিশোর/কিশোরী এবং তরুণ/তরুনী।

ইবনে সিনা তার আল-কানুন গ্রন্থের মাধ্যমে মানব স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় জ্ঞানকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। মূলত তার এই গ্রন্থের মাধ্যমেই চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশ্বকোষ রচনার সূচনা হয়।

#IGSRC