আমাদের ব্লগ

খলিফা আল মামুন
৮৩৩ সালের আজকের এই দিনে আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন ইন্তেকাল করেন
৮৩৩ সালের আজকের এই দিনে আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন ইন্তেকাল করেন।
পুরো নাম আবু জাফর আবদুল্লাহ আল মামুন ইবনে হারুন (আরবি: ابوجعفر عبدالله المأمون‎‎, ফার্সি: ابوجعفر عبدالله مامون‎‎) ( সেপ্টেম্বর ৭৮৬ – ৯ আগস্ট ৮৩৩) ছিলেন ৭ম আব্বাসীয় খলিফা। তিনি ৮১৩ সাল থেকে ৮৩৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পর্যন্ত শাসন করেন।
তার ভাই আল আমিন নিহত হওয়ার পর তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হন।
বাল্যকালে শিক্ষক আল কিসাইয়ের কাছ থেকে আরবি শিক্ষা পান । আবু মুহম্মদ আল ইয়াজিদী কাছ থেকে আদব এবং আল হাসান আল লুলুইয়ের কাছে থেকে ফিকহে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন । এসময় তিনি হানাফী স্কুল থেকে হাদিসে বিশেষ উৎকর্ষতা দেখিয়ে সবার বিশেষ নজরে আসেন । আল মামুনের পিতা ছিলেন বাদসা হারুনুর রশিদ । খলিফা আল মামুন নিজেও একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন । জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর অবদান নিয়ে অন্যকোন একদিন আলোচনা করবো । ইনশাআল্লাহ !
অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সাড়া জাগানো ও প্রভাবশালী জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র ‘বায়তুল হিকমা’, যাকে হাউজ অব উইজডম বা জ্ঞানের ভান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অনুবাদকেন্দ্র হিসেবে যাত্রাপথ শুরু হলেও ক্রমেই তা গবেষণাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানমন্দিরে পরিণত হয়েছিল। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আব্বাসীয় শাসনামলে। খলিফা হারুন-অর-রশিদ আব্বাসীয় রাজধানী বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুত্র হিসাবে পিতার অসমাপ্ত কাজটি খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ণতা দান করেন। মামুনের আমলে এ প্রতিষ্ঠান উন্নতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে । ৮২৮ সালে খলিফা আল-মামুন বাগদাদে শামসিয়া মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন । বায়তুল হিকমার সাথে শামসিয়া মানমন্দিরের সম্পর্ক ছিল । আল-মামুনের আমলে বায়তুল হিকমাহ ছাড়াও আরও অনেক লাইব্রেরী গড়ে উঠে সাথে প্রতিষ্ঠিত হয় অসংখ্য মানমন্দির এবং বাগদাদ হয়ে উঠে সমগ্রবিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু ।
খলিফা আল মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে চির অমর হয়ে আছে । তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- আবুল হাসান, আবু আলী ইয়াহিয়া, আল ফারগানী, আবুল কাশেম আহমদ, আবু জাফর মুহাম্মদ, হাসান ইবনে মুসা বিন শাকীর, আধুনি রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান সহ আরও অনেক বিজ্ঞানী ।
M. Rekaya এর মতে ‘আল মামুন তার জ্ঞান চর্চায় দক্ষতার দ্বারা সকলের থেকে আলাদা ছিলেন, তাকে আব্বাসীয় পরিবারের সবচেয়ে বুদ্ধিমান খলিফা সকলেই মনে করে, যা তার খেলাফত বিকাশের পথে সবচাইতে বেশী অবদান রেখেছিলো ’
তথ্যসূত্র:
• Bosworth, C. E., সম্পাদক (১৯৮৭)। The History of al-Ṭabarī
• John Bagot Glubb The Empire of the Arabs, Hodder and Stoughton, London, 1963.
• Peter Tompkins, “Secrets of the Great Pyramid”, Harper and Row, 1971.
• E. de la Vaissière, Samarcande et Samarra. Elites d’Asie centrale dans l’empire Abbasside, Peeters, 2007
• Michael Cooperson, Al-Ma’mun, Oneworld Publications, Oxford, 2005